বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় সেনার নতুন ঘাঁটি, প্রশ্ন উঠছে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২৫ অপরাধ সমাচার ডেস্কঃ ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরি সীমান্ত শহরে নতুন একটি সেনা ঘাঁটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এটি বাংলাদেশের সীমান্তের সবচেয়ে কাছের সামরিক স্থাপনা এবং গুয়াহাটির পর পশ্চিম আসামের প্রথম সামরিক স্টেশন। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আরসি তিওয়ারি ‘লাচিত বরফুকন মিলিটারি স্টেশন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এটি নির্মিত হচ্ছে ঐতিহাসিক আহোম বীর সেনাপতি লাচিত বরফুকনের স্মরণে, যিনি মোগল বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য খ্যাত। ধুবরির নতুন ঘাঁটিটি তেজপুরভিত্তিক চতুর্থ কোরের অধীনে থাকবে এবং এটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে। সরকারি মালিকানাধীন বামুনি পার্ট ১ ও পার্ট ২ গ্রামের জমিতে ঘাঁটিটি নির্মাণ হচ্ছে। আগে এই জমি প্রায় ৪০টি পরিবারের দখলে ছিল, যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম রাওয়াত জানান, নতুন এই ঘাঁটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর কার্যক্ষমতা ও অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। এদিকে সেনাপ্রধান তাঁর সফরে সীমান্ত অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, ধুবরিতে এই ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা শুরু হয় আসাম মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদ্যোগে। গত জুনে ঈদের পর ধুবরিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায়, এরপরই স্থায়ী সামরিক ঘাঁটির প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তব রূপ পায়। সূত্রটি আরও জানায়, নতুন ঘাঁটিটি সীমান্তে নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সংকেত পর্যবেক্ষণের একটি কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এতে প্রায় দেড় হাজার সেনা সদস্য থাকবেন, যার মধ্যে বিশেষ প্যারা স্পেশাল ফোর্সের একটি ইউনিটও থাকবে, যারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও ট্যাকটিক্যাল অভিযানে নিয়োজিত থাকবে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু সিনিয়র কর্মকর্তা সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘন ঘন সফর করেছেন। সর্বশেষ সফরটি ঘটেছে ১০ থেকে ১২ দিন আগে, যা নতুন ভারতীয় ঘাঁটির অবস্থান পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের সাবেক পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা প্রতাপ কলিতা (অব.) বলেন, ‘গুয়াহাটি, রাঙ্গিয়া ও তামুলপুরের পর পশ্চিম আসামে আর কোনো সেনা ঘাঁটি নেই। ধুবরিতে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন হলে সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি ও লজিস্টিক সহায়তা আরও সহজ হবে।’ Download News PhotoCard SHARES ওপার বাংলা বিষয়: