সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল আলফাডাঙ্গা ভূমি অফিসে মারামারির আসল কারণ প্রকাশিত: ১১:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৫ আলফাডাঙ্গা(ফরিদপুর)প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের শুনানির দিনে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের আসল কারণ ও প্রকৃতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে এসব তথ্য পরিষ্কার হওয়া গেছে। কলেজছাত্র মেহেদী শেখের (১৭) পরিবারের দাবি, এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত হামলা নয় বরং পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ঘটা একটি আত্মরক্ষামূলক সংঘাতের জের। প্রতিপক্ষ কর্তৃক প্রচারিত ‘হামলা’র অভিযোগটি তাই অতিরঞ্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত রোববার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় আলফাডাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে গোলাম রাব্বানী এবং ফজর শেখের মধ্যে জমি নিয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শুনানি শুরুর আগেই অফিসের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আহত গোলাম রাব্বানী নিজেই প্রথমে বিবাদী পক্ষের বুলবুলকে চড় মারতে উদ্যত হন, যা ছিল সংঘাতের প্রথম প্রকাশ্য উস্কানি। এই পরিস্থিতিতে বুলবুলের ভাই শিমুল এগিয়ে আসেন পরিস্থিতি শান্ত করতে। তিনি গোলাম রাব্বানীকে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সংযত হতে অনুরোধ করেন এবং বলেন, “এটা মারামারি করার জায়গা না, এখানে আইনি আলোচনা চলছে।” কিন্তু রাব্বানী সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে উল্টো শিমুলকে বকাবকি করতে থাকেন এবং অফিসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করে উত্তেজনা চরমে তোলেন। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং রাব্বানীর ক্রমাগত আক্রমণাত্মক আচরণের মুখে শিমুলের ভাতিজা, কলেজছাত্র মেহেদী শেখ গোলযোগ থামাতে এগিয়ে আসেন। তিনি রাব্বানীর আক্রমণাত্মক গতি রোধ করতে খালি হাতে কেবল একটি ধাক্কা দেন। মেহেদী শেখের পরিবারের দৃঢ় ভাষ্য, ‘মেহেদীর এই প্রাথমিক আঘাতটি ছিল নিছক উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা এবং আত্মরক্ষার তাগিদ থেকেই। গোলাম রাব্বানীর চরম আক্রমণাত্মক আচরণ ও অফিসের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টার কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। সংঘাতের পর আহত গোলাম রাব্বানী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, তাকে ‘হাতুড়ি দিয়ে মারা হয়েছে’ এবং তার ‘তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে’। এর বিপরীতে মেহেদীর পরিবারের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ফুটেজের প্রমাণ তুলে ধরে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, ধাক্কাটি ছিল কেবল খালি হাতের, কোনো হাতুড়ির ব্যবহার হয়নি। পরিবার আরও জানায়, গোলাম রাব্বানী বয়সের কারণে এমনিতেই তার কিছু নড়বড়ে দাঁত ছিল। আর কিছু দাঁত ছিল বাঁধানো। ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়ার কারণেই তার একটি দাঁত পড়ে যায়। এই ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ‘হাতুড়ি দিয়ে মেরে দাঁত ভাঙার’ মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। মেহেদী শেখের পরিবারের ধারণা, প্রতিপক্ষ এখন অতিরঞ্জিত এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো কলেজছাত্র মেহেদীকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এবিষয়ে মেহেদী শেখের পরিবার অবিলম্বে সিসি ক্যামেরার সম্পূর্ণ ফুটেজটি জনসমক্ষে এনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন। Download News PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: