শিল্প-কারখানার বর্জ্যে হুমকির মুখে জনজীবন, দায়িত্বশীলরা যেন বসে আছেন হাত-পা গুটিয়ে

প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক- গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের পরিবেশ বিপর্যয়ের পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিল্প-কারখানার বর্জ্য। কারখানাগুলোতে বর্জ্য পরিশোধনের ইটিপি প্লান থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ গুলোতেই নেই এই পরিশোধন ব্যবস্থা।

আবার যাদের এই ইটিপি আছে তারা সেটি পরিচালনা করছেন না।এসব তদারকি করার কথা পরিবেশ অধিদপ্তরের থাকলেও, তারা যেন বসে আছেন হাত-পা গুটিয়ে।

আর এভাবেই দিনের পর দিন কলকারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল ছড়িয়ে পড়ছে পরিবেশে।নগরীর কাশিমপুরের ৫নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ী এলাকায় টি এন্ড জি সলিউশন লিমিটেড কারখানার ডাইং ও ওয়াশিংয়ের বিষাক্ত পানিতে নাভিশ্বাস শ্বাস হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের, ছড়িয়ে পড়ছে রোগ জীবাণু।

অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী এই শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি ডাইং ও ওয়াশিং ফ্যাক্টরিতে থাকার কথা ইফুলিয়ান ট্রিটমেন্ট প্লান বা ইটিপি, যার মাধ্যমে পরিশোধিত পানি বের হওয়ার কথা, কোথায় সেই ইটিপি?

এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায় এই কারখানায় ঘুরলে।। দিনের পর দিন অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিষাক্ত পানি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, হুমকির মুখে রয়েছে জীববৈচিত্র্য।

এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষরা ক্ষমতার বীর দাপটেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অকপটে স্বীকার করেন টি এন্ড জি সলিউশন লিমিটেড কারখানার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার গাজী মনির।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে চলছে এসব? জানতে চাইলে মিলছে পরিবেশ অধিদপ্তরের চিরচেনা সেই উত্তর।এবিষয়ে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আরেফিন বাদল বলছেন,অতি দ্রুতই ইটিপিবিহীন ফ্যাক্টরি গুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

অপরদিকে গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন(গাপা) এর সাধারণ সম্পাদক মো. মোছাদ্দিকুর রহমান (হাজী মুছা) বলছেন, পরিবেশবাদীরা বলছেন এসব কেবলই গাফলতি, নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন না প্রশাসনের কর্মকর্তারা।অতি দ্রুত এই সমস্ত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তারা আন্দোলনের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কেমিক্যাল দিন দিন এভাবেই নষ্ট করছে পরিবেশ, যদিও এ দৃশ্যগুলো চোখ এড়িয়ে যায় পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের। বিষাক্ত কেমিক্যাল পানির মধ্যেই চরম সংকট ও হুমকির মুখেই বসবাস করে চলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।