আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার নামে প্রতারণা! মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রকাশিত: ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৫ কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ভুয়া পরিচয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে মো. ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে “বাংলাদেশ বোর্ড অব ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক সিস্টেমস অব মেডিসিন”-এর সার্টিফিকেটধারী চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগ সারানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওমর ফারুক চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘আয়ুর্বেদিক ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বিভিন্ন গ্রামে ভেষজ ওষুধের মাধ্যমে পাইলসসহ নানা রোগের চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছেন তিনি। ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৩), চান্দিনার বরকইট ইউনিয়নের খিরাসার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, দীর্ঘদিন পাইলস রোগে ভুগে আসছিলেন। এক স্থানীয়ের পরামর্শে ওমর ফারুকের কাছে গেলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন— “তিন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দেবো, না হলে টাকা ফেরত।” প্রথমে ৫ হাজার টাকার ওষুধ দেন, পরে চিকিৎসার অগ্রগতি না দেখে আরও ২০ হাজার টাকা নেন, এবং সর্বশেষ ‘ভারত থেকে বিশেষ ওষুধ আনতে হবে’ বলে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এভাবে মোট ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তার রোগের কোনো উন্নতি হয়নি। অভিযোগে মামুন উল্লেখ করেন, “যখন টাকা ফেরত চাই, তখন ওমর ফারুক উল্টো আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।” এরপর তিনি মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং স্থানীয় সেনা ক্যাম্প কমান্ডারকেও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার আড়ালে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক রোগী প্রতারিত হলেও লোকলজ্জা ও সামাজিক ভয়ভীতির কারণে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করেননি। অভিযুক্ত ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে অনলাইনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, তিনি সত্যিই “বাংলাদেশ বোর্ড অব ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক সিস্টেমস অব মেডিসিন”-এর ইউনারী ক্যাটাগরি-বি এর সনদধারী। তার নিবন্ধন নম্বর (Reg. No: ৩৯১৮) বোর্ডের ওয়েবসাইটে বৈধ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান বলেন, “আমার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ এসেছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, “ভুক্তভোগী যদি প্রতারিত হয়ে থাকেন, থানায় মামলা করলে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।” স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ বারবার প্রতারিত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এমন ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে। Download News PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: