অন্ধকারে মাতামুহুরি সেতু, বাড়ছে ছিনতাই-ডাকাতির আতঙ্ক প্রকাশিত: ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২৫ চকরিয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধিঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরি সেতুতে দীর্ঘদিন ধরে সড়কবাতিগুলো অচল হয়ে রয়েছে। নির্মাণের পর থেকেই সেতুর বাতিগুলো একে একে নিভে গেছে, কিন্তু আজও সেগুলো মেরামত করা হয়নি। ফলে রাতের বেলায় পুরো সেতুটি অন্ধকারে ডুবে থাকে, আর সেই সুযোগে ঘটে চলেছে ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি হত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করে। এসব যানবাহনকে বাধ্যতামূলকভাবে মাতামুহুরি সেতু দিয়েই পার হতে হয়। এছাড়া চকরিয়া পৌর শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত হেঁটে এই সেতু পারাপার করেন। কিন্তু সেতুর বাতিগুলো নিভে থাকায় সন্ধ্যার পর পথচারীরা আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করেন। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল বলেন, “সেতুতে আলো না থাকায় সন্ধ্যার পর ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় মোটরসাইকেল বা গাড়ি থামিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। কয়েকবার স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত সড়কবাতিগুলো সচল করে, তাহলে মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবে।” আরেক বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এ সেতুটি চকরিয়ার অন্যতম ব্যস্ততম জায়গা। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথে যাতায়াত করে। কিন্তু আলো না থাকায় শুধু ভয় নয়, দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যায়। বিশেষ করে বৃষ্টির রাতে অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না, তখন ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।” পৌর শহরের ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে দোকানে যাই। আগেও এখানে কয়েকবার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আলো না থাকায় পুলিশের টহল গাড়িগুলোও ঠিকমতো নজরদারি করতে পারে না।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি একাধিকবার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “মাতামুহুরি সেতুর বাতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে—বিষয়টি জানা আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন ও সওজ বিভাগ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সেতুর বাতিগুলো সচল করবে, যাতে অন্ধকারের সুযোগে আর কেউ অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে এবং মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। Download News PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: