আঞ্চলিক সড়কের পয়েন্টে পয়েন্টে চোরাই তেলের দোকান, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ির মালিক ও প্রতিষ্ঠান প্রকাশিত: ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫ নিজস্ব প্রতিবেদক- গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের পয়েন্টে পয়েন্টে বসানো হয়েছে চোরাই তেলের দোকান। প্রতিদিন শত শত গাড়ি থেকে চালকরা এসব দোকানে কম দামে তেল বিক্রি করে।এদিকে প্রশাসন এসব দেখেও না দেখার মতোই থাকে। এদিকে এলাকাবাসী ও চোরাই তেলের দোকানিরা জানান, কাশিমপুরের আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে চোরাই তেলের দোকান। কেউ কেউ সরকারি জমি দখল ও দোকান ভাড়া নিয়ে টিনের তৈরি এসব দোকান ঘর তুলেছে। গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিল্প-কারখানার গাড়ি থেকে চালকরা কম দামে এসব দোকানে তেল বিক্রি করে। মালিককে না জানিয়েই চুরি করে চালকরা প্রতি লিটার তেল বিক্রি করে ৯৬ থেকে ৯৮ টাকা লিটার দরে। বিভিন্ন শিল্প কারখানার কভার্ডভ্যান থেকেই বেশি তেল বিক্রি করা হয়। এভাবেই চালকরা বাড়তি আয় করছে চুরি করে তেল বিক্রি করে।এতে করে গাড়ির মালিক বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও তেলের ট্যাংকার চালকরাও এসব দোকানে গিয়ে চুরি করে তেল বিক্রি করে থাকে। এদিকে পুলিশ প্রশাসন এসব দেখেও না দেখার মতোই থাকে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রত্যেক দোকানেই মাসিক বেতন দিয়ে দুই-তিন জন করে কর্মচারী রাখা হয়েছে। তারা গাড়ির টাংকি থেকে তেল নামিয়ে রাখে। আর দোকান মালিকরা আড়াল থেকেই দোকান পরিচালনা করে,তবে দোকানে রাত-দিন কর্মচারীরাই থাকে। কাশিমপুরের ভবানীপুর এলাকায় এক কিলোমিটার জায়গা মাঝেই ৮ থেকে ১০টি চোরাই তেলের দোকান রয়েছে। এছাড়াও আঞ্চলিক সড়কের রাস্তার দুই পাশে এসব চোরাই তেলের দোকান গড়ে উঠেছে। ২১ দিন পর পরই কভার্ডভ্যানের চালকরা ১০ থেকে ১৫ লিটার করে তেল চুরি করে বিক্রি করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরে ৩০টি চোরাই তেলের দোকান রয়েছে। টিনের দোকানগুলোর সামনে ড্রাম দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে, এখানে তেল কেনা হয়। বিভিন্ন গাড়ির চালকরা এসব দোকানের সামনে কিংবা টিনের বেড়ার আড়ালে গাড়ি থামিয়ে তেল বিক্রি করছে। দোকানদাররা ওই তেল ড্রাম ভর্তি করে বিভিন্ন জায়গায় আবার বিক্রি করছে। চোরাই তেলের দোকানের কর্মচারীরা গাড়ির টাংকি থেকে তেল নামাচ্ছে। পরে তেল বিক্রির টাকা নিয়ে চালকরা চলে যায়। কাশিমপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের চোরাই তেলের দোকানের মালিক ফারুক হোসেনের ছোট ভাই সোহাগ হোসেন বলেন,সবকিছু ম্যানেজ করে দোকান চালাতে হয়। প্রশাসন ও বিভিন্ন লোকজন আসে।তাদের ম্যানেজ করে এসব দোকান চালাই। তবে ব্যবসা আগের মতো ভালো নেই। এবিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার(কোনাবাড়ী জোন)আবু নাসের আলামিন বলেন, অপরাধ গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় অপরাধের শেষ নেই! তবুও আমরা কিছুদিন আগে কাশিমপুরে একটা অভিযান চালিয়েছি।এ সমস্ত তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের যে টহল টিমগুলো রয়েছে তাদেরকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।আর এ বিষয়ে আমাদের সবসময় নজরদারি রয়েছে। এছাড়াও কাশিমপুর থানা পুলিশের নামে টাকা নেয়ার বিষয়টা তিনি অস্বীকার করে বলেন, একটা গাড়ি চালাতে যত পরিমাণ তেল লাগে সেগুলো পুলিশ লাইনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। তবে কোথাও যদি কোন অভিযোগ পেয়ে থাকেন,তাহলে নির্দিষ্ট ঠিকানা দিয়ে সহযোগিতা করেন আমি পুলিশের টিম পাঠিয়ে দিবো। Download News PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: