ওসমানীনগরে চলছে পোনা নিধনের রামরাজ্য, অবৈধ জালেই শেষ মাছের ভবিষ্যৎ প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২৫ ওসমানীনগর(সিলেট)প্রতিনিধিঃ সিলেটের ওসমানীনগরে কাটার মারখাল এলাকার নদ-নদীতে অবৈধ ভাবে সরকারি লিজ ও টুকন ছাড়া,জাল ফেলে মাছ শিকারের মহোৎসব চলছে। ছোট ফাঁসের গড়া জাল, বেড় জাল, ভাসা জাল,রিং জাল,কাপড়ি জাল ও বেহুন্দি জাল, কারেন্ট জালসহ নানা ধরনের অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করছেন জেলেদের আড়ালে নামধারী নিশিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও বিএনপির পাতিনেতারা। এসব জালে ধরা পড়ে প্রতিদিনই অসংখ্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন হচ্ছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অবাধে মাছের পোনা নিধনযজ্ঞ বন্ধ না হলে অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এ বলা হয়েছে, নির্বিচারে পোনা মাছ ও প্রজননক্ষম মাছ নিধন মৎস্য সম্পদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়। চাষের উদ্দেশ্য ব্যতীত কেউ প্রতিবছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর (আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি থেকে পৌষ মাসের মাঝামাঝি) পর্যন্ত ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) নিচে থাকা কাতলা, রুই, মৃগেল, কালিবাউশ, ঘনিয়াসহ দেশি প্রজাতির মাছ নিধন করতে পারবে না। চাষের উদ্দেশ্যে মাছ ধরতেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। অন্যদিকে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা তার চেয়ে কম ফাঁসবিশিষ্ট জাল ব্যবহার করা যাবে না। আইন অমান্য করলে ১ মাস হতে সর্বোচ্চ ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। ওসমানীনগরের জনপ্রিয় সাদীপুর কাটার মার খাল এছাড়াও এসব নদীর শাখা-প্রশাখায় বেশ কিছু প্রবাহমান খাল রয়েছে। এ দুইটি নদ-নদী ও বেশ কিছু খাল ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছোট ফাঁসের জাল পেতে অবাধে মাছ ধরা হচ্ছে। কাটার মার খালে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত চলে পোনা নিধনের মহোৎসব। দুইটি নদিতে প্রায় দুই শতাধিক জেলে বড় মাছ ধরার নামে নিধন করছে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ। প্রশাসনের নাকের ডগায় পোনানিধনযজ্ঞ অনেকটা ওপেনসিক্রেট হলেও সংশ্লিষ্টরা নির্বিকার। ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের এলাকায় প্রায়ই দেখা যায়, ২/৩ টি নাম মাত্র সমিতির জেলে কে ব্যবহার করে আওয়ামীলীগ বিএনপির নেতারা মিলেমিশে রাতের আঁধারে কাপড়ি জাল,নিশিদ্ধ রিং জাল,বেড় ও গড়া জাল পেতে দিয়ে মাছ ধরে আসছে প্রতিনিয়ত। রাত হলেই চলে তাহাদের মাছ ধরার উৎসব। এ সময় দেখা যায়, পোয়া, টেংরা, গুলিশাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পাশাপাশি অসংখ্য মাছের পোনা আটকা পড়ছে। জাটকার চেয়েও ছোট সাইজের বোয়াল,চিতল,গনিয়া, রিঠা, আইড়, কালি বাউশ,পাঙাস, কাচকি, চাপিলা, চাপিদা,পাবদা,বড় পুঠি, পুঁটি, বাইম, ও চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছোট ফাঁসের এসব জালে ধরা পড়ছে। ক্ষুদ্রাকৃতির এসব পোনা ‘গুঁড়া মাছ’ হিসেবে কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে এলাকাবাসী বলেন, ‘একশ্রেণির জেলে বছরব্যাপী অবৈধ জাল অবাধে ব্যবহার করে মাছের পোনা নিধন করে আসছে। আমরা গত বৎসর বারবার মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেও প্রতিকার পাইনি। এভাবে শিকার চলতে থাকলে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশ শেষ হয়ে যাবে, কমে যাবে নদীর মাছ। ওসমানীনগর মৎস্য কর্মকর্তাকে একাধিক বার মোবাইল ফোনে কল করেও পাওয়া যায়নি। Download News PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: