তিন নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের দাপট, প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নে? প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২৫ পীরগাছা(রংপুর)প্রতিনিধিঃ রংপুরের পীরগাছায় দীর্ঘদিন ধরে তিন নদীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের হিড়িক। কৈকুড়ী ইউনিয়নের ঘাঘট, ছাওলা ইউনিয়নের তিস্তা ও বুড়াল নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ড্রেজার মেশিন ও ট্রাকের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে নদীভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে চর ও নদী তীর কেটে বালু উত্তোলন করছে। একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও স্থায়ী উদ্যোগ না থাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, “নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয় না। অভিযোগ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। নতুন করে কোথাও এমন কার্যক্রম চলছে কিনা—তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ ও নদী রক্ষায় প্রশাসন সবসময় সক্রিয়।” ওসির বক্তব্য এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া জানান, “অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। এলাকায় বাড়তি টহল রয়েছে। আইন ভঙ্গের প্রমাণ মিললে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্থানীয়দেরও এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের বক্তব্য স্থানীয় মাষ্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিজ বলেন, “বালু তোলার কারণে আমাদের জমির পাড় ভেঙে যাচ্ছে। ট্রাক চলাচলে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। আমি বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি।” সচেতন মহলের উদ্বেগ সচেতন মহল বলছে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। না হলে তিন নদীসহ আশপাশের পরিবেশ ও জনজীবন ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। Download News PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: