দেলদুয়ারে কৃষি কর্মকর্তার দৌরাত্ম্য ক্ষুব্ধ কৃষকদের বিক্ষোভ—তদন্ত ও অপসারণ দাবি

প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২৫

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি দপ্তরকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে। লক্ষ্যভেদী কৃষিসেবাকে কেন্দ্র করে যে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহির প্রত্যাশা ছিল, তা আজ তীব্র প্রশ্নের মুখে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—কৃষি উপকরণ বরাদ্দ, ডিলার নির্বাচন ও প্রণোদনা বিতরণে নানাবিধ অস্বচ্ছ লেনদেন, চাঁদা দাবি এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ডিলারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের বিনিময়ে তাদেরকে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রকৃত কৃষক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেন অযাচিত অগ্রাধিকার। প্রণোদনার ক্ষেত্রেও নিজের পছন্দ কে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

গরিব কৃষকদের প্রণোদনা বিতরণের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। নিয়ম অনুযায়ী, এসব বরাদ্দে কমিটির সদস্যদের মতামত নেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে—মতামতের তোয়াক্কা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রায়ই। অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা নেয়ার বিনিময়ে তালিকায় নাম ওঠে এমন অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।

ডিলারদের আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আরও গুরুতর অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে উপজেলার সর্বত্র লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে অবৈধভাবে নতুন ডিলার নিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অনেক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে দাবি করেছেন। এর ফলে কৃষি ইনপুট বাজারে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা, অনিয়ম ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, পছন্দের কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণের বিনিময়ে তাদের পণ্য ক্রয় কিংবা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমনকি অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতার কারণে অফিসে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে। সৎ ও নীতিবান কর্মকর্তাদের মনে করছেন, এই পরিবেশে দায়িত্ব পালন করা একপ্রকার নাভিশ্বাসের সমতুল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক স্পষ্ট ভাষায় বলছেন এটি পুরো উপজেলার কৃষি খাতের জন্য অভিশাপ। তাদের দাবি অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, অপসারণ সহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক রাষ্ট্রের প্রাণ তাদের অধিকারের প্রশ্নে কোনো অনিয়মই সহ্য করা যায় না।

দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যথা শ্রীঘ্রই তদন্ত করে বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আশেক পারভেজ এর দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল হাসান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ কেউ আমাকে দেয় নি। তবুও এই বিষয়ে তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দেন।