মধুপুরে এশিয়া হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২৫ মধুপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে খাদিজা খাতুন (২০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সিজারে জন্ম নেয়া শিশুটি বেঁচে আছে। এ ঘটনায় মধ্যরাতে মীমাংসা বৈঠকে তিন লাখ টাকায় দফা রফা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে মধুপুর হাসপাতাল রোডের প্রাইভেট ক্লিনিক এশিয়া হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে। মৃত খাদিজা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশোরগঞ্জ এলাকার বাকতা গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহীন মিয়ার স্ত্রী বলে জানা যায়। মৃত খাদিজার স্বজনদের ও হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, খাদিজা সিজারের জন্য সকাল দশটায় বেসরকারি এশিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার সিজারিয়ান অপারেশন হয় দুপুর ১২ টায়। মৃত খাদিজার পরিবার জানায়, খাদিজার এটি ছিল দ্বিতীয় সিজার। অপারেশন করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শিমলা আফতাব শাওন। সিজার সম্পন্ন হওয়ার পরই খাদিজার শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। স্বজনরা অভিযোগ করেন, অপারেশনের পর দীর্ঘ সময় রোগীর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি এবং অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে খাদিজাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলেও ততক্ষণে খাদিজা মারা গিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের। এ বিষয়ে হাসপাতালের অন্যতম পরিচালক মানিক সাহা জানান, অভিযোগ সত্যি নয়। অপারেশনের পর রোগীকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে রাখা হয় সেখানে কাউকে যেতে দেয়া হয় না। তিনি আরও জানান, রোগীর আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট ছিল। রক্তক্ষরণ ও শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি ঘটে। তার দাবী ময়মনসিংহে নিতে দেরি হওয়াতেই রোগী মারা গেছে। এদিকে খাদিজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে বিক্ষোভ শুরু করেন। স্বজনরা চিকিৎসার কাগজপত্র চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা না দেওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। খাদিজার স্বজনরা জানান, চিকিৎসার স্পষ্ট অবহেলাতেই খাদিজার মৃত্যু হয়েছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রাতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় হাসপাতাল প্রশাসন ও মৃতের পরিবারের মধ্যে মীমাংসার আলোচনায় বসা হয়। মধ্য রাত পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। Download News PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: