ঐতিহ্য রক্ষায় চাঁদা তুলে ৭২ হাত বাইচের নৌকা নির্মাণ

প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২৫
আলফাডাঙ্গা(ফরিদপুর)প্রতিনিধিঃ ​
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় লোক-সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সুস্থ বিনোদনের উদ্দেশ্য নিয়ে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামবাসী সম্মিলিত উদ্যোগে নির্মাণ করেছেন বিশাল আকৃতির ৭২ হাত দীর্ঘ একটি বাইচের নৌকা। গ্রামবাসীর চাঁদা উত্তোলনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই নৌকাটির নামকরণ করা হয়েছে ‘একতা এক্সপ্রেস’—যা তাদের অভূতপূর্ব ঐক্যের প্রতীক।
​​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নৌকাটি নির্মাণে পানিপাড়া গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে চাঁদা দিয়েছেন। এই গণ-অর্থায়নের মাধ্যমে নৌকা তৈরিতে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। গ্রামের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ৪ জন দক্ষ কারিগর টানা দশ দিন ধরে নিরলস কাজ করে নৌকার কাঠামো প্রস্তুত করেছেন। ​নৌকা তৈরির মূল কারিগর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাতক্ষীরা জেলার কয়রা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম। নৌকা নির্মাণই তার প্রধান পেশা। স্থানীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক নকশার সংমিশ্রণে তিনি নৌকাটির গঠন প্রায় শেষ করে এনেছেন। বর্তমানে শুধু এর দৃষ্টিনন্দন রঙের কাজ বাকি রয়েছে।
কারিগর কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এত বড় বাইচের নৌকার কাজে যথেষ্ট মনোযোগ ও সূক্ষ্মতা প্রয়োজন হয়। গ্রামবাসীর আগ্রহ দেখে আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কাজটি শেষ করতে পেরেছি। ঐতিহ্যবাহী এই বাইচের নৌকা তৈরিতে আমি সবসময়ই গর্ববোধ করি, এটি গ্রামবাসীর ঐক্য ও ভালোবাসার প্রতীক।’
​নৌকা তৈরির উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম রমজান ফকির বলেন, ‘যুবসমাজকে মাদক ও বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ দিতেই মূলত এই উদ্যোগ। প্রথমে কিছুটা বেগ পেতে হলেও গ্রামের সকলের অংশগ্রহণে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। একতা এক্সপ্রেস শুধু একটি নৌকা নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত স্বপ্নের এবং সম্প্রীতির প্রতীক।’
​​গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আবুল কালাম ভেন্ডার নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘নৌকা বাইচ আমাদের লোক-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিনোদনের ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে সকলে মিলে চাঁদা সংগ্রহ করে এই ৭২ হাত দীর্ঘ ‘একতা এক্সপ্রেস’ তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি, এই নৌকা প্রতিযোগিতায় আমাদের গ্রামের সুনাম বয়ে আনবে।’
​গ্রামবাসীর এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া বলেন, ‘পানিপাড়া গ্রামবাসীর এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। নিজেদের অর্থায়নে এত বড় নৌকা তৈরি করে তারা কেবল একটি ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখছেন না, বরং সমাজের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছেন।’