গাজীপুরে ফের সক্রিয় চোরাই তেলের সিন্ডিকেট: দিনে রাতে চলছে তেল নামানোর কারসাজি’

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৫
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাই জ্বালানি তেলের সিন্ডিকেট। রাতে দোকানের সাটার বন্ধ করে চলছে তেল নামানোর কারসাজি, যেন বন্ধ দোকানেই জ্বলে উঠেছে আলাদিনের চেরাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে নাওজোড় ও কড্ডা এলাকায় তিনজনকে আটক করা হলেও থেমে থাকেনি সিন্ডিকেটের কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, বাসন থানার ওসি শাহিন খানের বডিগার্ড বুলবুলের প্রত্যক্ষ আশকারায় সিন্ডিকেটের মূল হোতা আমির ও মুরসালিন এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
তবে আমিরের দোকান বন্ধ থাকলেও মুরসালিন চোরাই জ্বালানি তেলের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের সহযোগী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন জিয়া ও সালাম নামের আরও দুইজন।
গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাইপাসের যোগিতলা আন্ডারপাস এলাকায় মুরসালিনের দোকানে ও ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ থাকা দোকানগুলোর কর্মচারীরা গোপনে তেল ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত রয়েছেন।
আরও জানা যায়, পুরাতন বাসন থানার বিপরীত পাশে মুদির দোকানের আড়ালে জ্বালানি চোরাই তেলের ব্যবসা পরিচালনা করছে জিয়া এবং দোকানের সাটার বন্ধ করে চোরাই জ্বালানি তেল গাড়ি থেকে নামাচ্ছে ছালাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, অবৈধ অর্থের জোরে এরা অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে যে কোনো কঠিন বিষয়কে সহজ করে ফেলে। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তা ছাড়া এমন কর্মকাণ্ড সম্ভব নয়।
এর আগে গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাসন থানা পুলিশ নাওজোড় ও কড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে এবং বিপুল পরিমাণ চোরাই তেল ও সরঞ্জাম জব্দ করে।
পরে প্রশাসনের নির্দেশে দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও অল্প ক’দিনের ব্যবধানে রাতের আধারে পুনরায় ব্যবসা শুরু করেছে সিন্ডিকেটটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পুরো চোরাই তেল ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রণ করে, যার নেতৃত্বে রয়েছে আমির ও মুরসালিন।
 প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে তারা দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের দুই পাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এসব অবৈধ তেলের দোকান। রাতের বেলায় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন থেকে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি ট্যাংক থেকে তেল নামানো হয়।
 এতে একদিকে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাতভর তেল ও বালু নামানোর কারণে পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে দোকানদাররা হুমকি ও গালাগাল করেন।
এমনকি সংবাদকর্মীরাও তথ্য সংগ্রহে গেলে অসদাচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হন। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এ অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাহিদুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি এখনি ডিসি, এডিসি এবং ওসি সাহেবকে বিষয়টি জানাচ্ছি, তবে ফের যদি অবৈধ চোরাই তেলের দোকান চালু করে থাকে। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও অন্যায় করে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।