চোরাই তেল বাণিজ্যে গাজীপুরে নতুন আতঙ্ক—স্থানীয় দুষ্কৃতচক্র সক্রিয়

প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২৫
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরে বালুর গদির আদলে গড়ে উঠেছে চোরাই জ্বালানি তেলের ব্যবসা। মহাসড়কের পাশে অবাধে চলছে রোমান নামের এক ব্যক্তির চোরাই জ্বালানি তেল বেচাকেনা। এদিকে ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে গাড়ির ড্রাইভার প্রতি মাসে বিশ হাজার টাকা দোকান থেকে উত্তোলন করারও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি চোরাই তেলের ব্যবসা। এসব দোকানের নেই কোনো সাইনবোর্ড, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন কিংবা ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, যানবাহন ছাড়া পাম্প থেকে খোলামেলা বা বোতলের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি করে না পাম্প কতৃপক্ষ। এসুযোগে দুষ্কৃতকারীরা অবৈধ জ্বালালি চোরাই তেলের দোকান থেকে সহজে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল কিনে অপ্রীতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত শনিবার ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি বাইমাইল এলাকায় বালুর গদির আড়ালে স্থাপিত দোকানে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও হেলপাররা পাইপের মাধ্যমে গাড়ির ট্যাংক থেকে সরাসরি তেল নামিয়ে বিক্রি করছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ নভেম্বর রাতে গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা এলাকায় পেট্রোলবোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের তিন নেতাকে আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের হেফাজত থেকে প্রায় ৩০০ মিলিলিটার পেট্রোল, সাদা প্লাস্টিকের চিকন পাইপ, বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে গতকাল ১৫ নভেম্বর রাতে শ্রীপুরের বারতোপা বাজারে গ্রামীণ ব্যাংকের এক শাখায় দুটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এছাড়াও ১৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন স্টেশন রোডের মন্নু টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ থেকে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা এ ধরনের চোরাই জ্বালানি ব্যবসা অপ্রীতিকর ঘটনার অন্যতম উৎস।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে তেল কেনাবেচা হলেও প্রশাসনের নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, এমনকি হুমকি- ধমকি দেয় চোরাই তেল কারবারিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্বালানি তেল ক্রেতা জানান, এজায়গায় একটা দোকান দেইখা ওসিরে বিশ হাজার টেহা দেয়। ওসির ড্রাইভার এনে আহে না কোনাবাড়ী আরিফ কলেজের সামনে আহে, টেহা ওখানে দিয়ন লাগে। একদিন আমার কাছে আইসা তেলের টেহা নিয়া গেছে ওসির ড্রাইভাররে টেহা দিয়নের লাইগা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেনাবাড়ীর বাইমাইল এলাকায় আগে বেশ কয়েকটি চোরাই জ্বালানি তেলের দোকান ছিলো এখন আগের মতো বেশি দোকান নেই। বাইমাইল এলাকায় অবৈধ তেলের দোকান এখন রোমানের একটি আরেকটি সমর বাবুর দোকান প্রায়ই সময় বন্ধ থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু পুলিশ নয়, কিছু তথাকথিত সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীকেও টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
চোরাই জ্বালানি তেল বিক্রেতা রোমানের বক্তব্য জানতে, একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি, ক্ষুদে বার্তা দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন আহাম্মেদ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, কেউ যদি দোকান খোলা রাখে বা নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা নেয় সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. রবিউল হাসান বলেন, আপনারা আমাদেরকে চোরাই তেলের দোকানের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন, এবিষয়ে এখনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই মহাসড়কের পাশে অবৈধ জ্বালালি চোরাই তেলের দোকান গড়ে উঠেছে।নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হিসেবে এই অবৈধ তেল ব্যবসা দ্রুত বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।