এস এ সিদ্দিক সাজুর বিরুদ্ধে শোকজের পর: মিরপুরে ফের বিশাল মশাল মিছিল

প্রকাশিত: ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২৫

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,  ঢাকা

রাজধানীর ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী হিসেবে দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পক্ষ থেকে দারুসসালাম থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিক সাজুকে শোকজের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে  গোটা মিরপুর। এস এ সিদ্দিক সাজু মিরপুরে সাবেক পাঁচ বারের এমপি মরহুম এস এ খালেকের ছেলে

তার বিরুদ্ধে শোকজের প্রতিবাদে ২৩ নভেম্বর (রবিবার) রাতে স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অসংখ্য স্থানীয় নাগরিবৃন্দের অংশগ্রহণে ফের বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্টিত হয়েছে। মিছিলটি গাবতলী কেন্দ্রীয় আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে, গতকাল ২২ নভেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যায় ঢাকা -১৪ আসনের প্রা্থী পরিবর্তনের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি, অঙ্গসঙ্গঠনের নেতৃবৃন্দ ও হাজারো স্থানীয় নাগরিকগণের অংশগ্রহণে এক মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সন্ধ্যায় হযরত শাহ আলী কলেজ মার্কেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণের পর সনি সিনেমা হলের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এর পরপরই, অর্থাৎ ওইদিন ২২ নভেম্বর (শনিবার) রাতেই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র যুগ্ম – আহবায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে) এ বি এম এ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে এসএ সিদ্দিক সাজুর বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়। এতে আগামী তিন দিনের মধ্যে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় বরাবর লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে সানজিদা ইসলাম তুলিকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে অতীতে সানজিদা ইসলাম তুলির কোন প্রকার অবদান নেই। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনকারী এবং স্থানীয়ভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য নেতা এস এ সিদ্দিক সাজুই বেশি উপযুক্ত প্রার্থী। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করলে নির্বাচনী মাঠে সাংগঠনিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন বক্তারা।

এবিষয়ে এস এ সিদ্দিক সাজু বলেন, সানজিদা ইসলাম তুলি একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে যোগ্য। কিন্ত ঢাকা-১৪ আসনের রাজনীতিতে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী  হিসেবে তিনি উপযুক্ত বলে আমি মনে করিনা। এছাড়া দলীয় সিদ্ধান্তে অসন্তষ্ট হলে যেকোনো বিষয়ে স্থানীয় ভোটারবৃন্দ তাদের মত প্রকাশ করতেই পারেন। এতে আমাকে শোকজ করা যৌক্তিক কারণও আমি দেখছিনা। এতে আমাকে কেনো দায়ী করা হচ্ছে সেবিয়টিও আমার বোধগম্য হয়।

 বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে আমার বাবা মরহুম এস এ খালেকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি দীর্ঘ পাঁচ মেয়াদে অবিভক্ত মিরপুরের নির্বাচিত এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি নিজেও গত ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। দীর্ঘ ১৭ টি বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দুঃশাসনের আমলে বিএনপির স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সকলরকম সাহায্য সহযোগীতা করে এসেছি। সুতরাং ঢাকা -১৪ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করে আমাকো মনোনয়ন দেয়া হবে বলে বিএনপির হাইমান্ডের প্রতি বিশেষ আশাবাদ ব্যাক্ত করছি।