২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বিএনপির, ঝুলে রইল ফরিদপুর-১ আসন!

প্রকাশিত: ১১:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৫
আলফাডাঙ্গা(ফরিদপুর)প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলীয় প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছেন।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে ২৩৭টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তবে এই ঘোষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে – সেটি হলো ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা)। ​ঘোষিত তালিকার বাইরে থাকা আসনগুলো নিয়ে দলের অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফরিদপুর-১ আসনটির নাম না আসায় স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
​রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও দলীয় সূত্র মতে, এই আসনটি ঝুলে থাকার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
১. অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী: দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপির একাধিক প্রভাবশালী নেতার মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। এদের মধ্যে কোনো একক প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
২. শরিকদের জন্য ছাড়: ঘোষিত আসনের বাইরে কিছু আসন জোটের শরিক দলগুলোর জন্য উন্মুক্ত রাখা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ফরিদপুর-১ আসনটি জোটের কোনো গুরুত্বপূর্ণ শরিককে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩. কৌশলগত বিলম্ব: অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়াতে বা শরিকদের সন্তুষ্ট করতে আসনটি আপাতত স্থগিত রেখে আলোচনার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে ​ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নাম জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছিল।
তবে হঠাৎ করে আসনটির প্রার্থীর নাম স্থগিত রাখায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা এখন দ্বিধাবিভক্ত। তাদের ধারণা, দলের হাইকমান্ড হয়তো এই আসন নিয়ে ‘বিশেষ কোনো পরিকল্পনা’ করছে।
​বিএনপি মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, যেসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি, সেগুলো নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা চলছে এবং পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।
​তবে ফরিদপুর-১ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা জানতে আপাতত অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হলো।